২৮.৯৯°সে, ২রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা বোকাইনগর একটি ঐতিহ্যবাহী গ্রাম।মোগল পাঠান আমলের স্মৃতি বিজরিত কিল্লা বোকাই নগরের উর্বর মাটিতে নানা রকমের ফসলের পাশাপাশি এখন আবাদ হচ্ছে মিষ্টি লটকন। এই গ্রামের কৃতি কৃষকের তালিকা নাম লিখালেন আবুল ফজল। তিনি অনুর্বর জায়গায়কে উর্বর করে ফলজ বনজ সবজি চাষ করে তাক লাগিয়ে দেন।স্বীকৃতি সরূপ ” দীপ্ত কৃষি পদক” সহ জাতীয় পর্য়ায়ের নানা পদক চিনিয়ে আনেন।
বর্তমানে লিচুর পাশাপাশি গ্রামের কৃষকরা এগিয়ে আসছে লটকন চাষে । এমন কোন বাড়ী নেই যে দু চারটি লটকন গাছ নেই। টক, সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরপুর বোকাইনগরের মিষ্টি লটকনের স্থানীয় নাম বুবি। এ বছর দেশিয় এ ফল লটকনের ভালো ফলন হয়েছে। তাই লটকন হাসি ফুটিয়েছে চাষীদের মুখে। আগাম বিক্রি করে মালিকরা ইতোমধ্যেই লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করেছেন। বিনা পরিশ্রম এ অর্থ পেয়ে লটকন বাগানের মালিকরাও বেশ খুশি।
বোকাই নগরের কালীবাড়ি জমশেদ মিয়া বলেন- আমার বাড়ীতে ছোট বড় ২৫ টা গাছ রয়েছে আমি ৫০ হাজর টাকা বিক্রি করেছি।
বৃ-বড়ভাগের আবুল হাসেম জানান, আমার লটকন বাগানে ১০০টি গাছ রয়েছে আশা করি লাখ দুএক টাকা বিক্রি করতে পারবো।
লটকন বেপারী বাচ্চু মিয়া বলেন,বোকাইনগরে লটকন আমি লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করেছি।এবার বাজার ভালো,আশা করছি ভাল লাভ পাবো। আমি ঢাকা,সিলেট, চিটাগাংসহ বিভিন্ন জায়গায় পাঠাই।
উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মতিন ও চন্দন সাহা জানান,অত্র ইউনিয়নে ছোট-বড় প্রায় শতাধিক লটকন বাগান রয়েছে। আমরা বাগান পরিচর্যা বিষয়ে করনীয় বিষয়ে সর্বোচ্চ পরামর্শ দিয়ে থাকি।
উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, উপজেলার সব জায়গায় লটকন হয়ে থাকে।তবে উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের বৃ-বড়ভাগ, কিসমত বড়ভাগ, স্বল্প বড়ভাগ, গোবিন্দনগর, কাশিমপুর, রামজীবনপুর, ইয়ারপুরে কান্দাপাড়া, কালিবাড়ী, অষ্টঘর,কিল্লা বোকাইনগরে,নয়াপাড়া পশ্চিমপাড়ায় ভালো জন্মে। কোনো প্রকার খরচ ও পরিচর্যা ছাড়াই লক্ষ লক্ষ টাকার লটকন ফল উৎপাদন হচ্ছে। গৌরীপুরের চাহিদা মিটিয়ে এ ফল এখন দেশের সীমানা পেরিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশে।