৩৩.৫৪°সে, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ছাত্রদল নেতা হুমায়ুন কবির হত্যাকান্ডে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়ে ও সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মামলার এজাহারভুক্ত ৬ নম্বর আসামী মাসুদ রানা।

বুধবার(১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ময়মনসিংহের গৌরীপুর প্রেসক্লাব মিলনাতয়নে সংবাদিকদের উপস্থিতিতে এই সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সন্মেলনে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী মাসুদ রানা বলেন, গত ১৩ জুন গৌরীপুর উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের সোনাকান্দি গ্রামের তারা মিয়ার চায়ের দোকানে সহনাটী ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা হুমায়ুন কবির দুবৃত্তদের দ্বারা নির্মমভাবে নিহত হন। এই ঘটনার সঙ্গে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন এবং এজাহারভুক্ত ৮নম্বর মজিবুর রহমান ও ৫ নম্বর আসামী মেহেদী হাসান টুটুলও নির্দোষ। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন মর্মে মামলা থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন।
তিনি আরও দাবি করেন, সোনাকান্দি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক এ.বি সিদ্দিক ও তার চাচাতো ভাই মিজানুর রহমান খোকন নিহতের বাবাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে আমাকে মামলার আসামী করা হয়েছে। আমার বাড়ীতে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি, পুকুরের মাছ লুটপাট এবং বাড়ির মহিলাদের শ্লীলতাহানিসহ অগ্নিসংযোগ করে ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ঘটনার সময় তিনি পাছার বাজারে নিজস্ব সার, কীটনাশকের ব্যবসার দোকানে ছিলেন এবং নির্দোষ দাবী করা মজিবুর রহমান উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের নহাটা গ্রামের শ্বশুড়বাড়িতে ছিলেন এবং অপর আসামী মেহেদী হাসান টুটুল পাছার বাজারে নিজ চায়ের দোকানে ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমি সহ নির্দোষ অপর দুই আসামী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। এই মিথ্যা মামলা থেকে আমরা অব্যাহতি চাই এবং সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে,সোনাকান্দি গ্রামের পল্লী চিকিৎসক এ.বি সিদ্দিক জানান, মামলার বাদী কাইয়ুম আমার ভাতিজা, তাকে ভয়ভিতি দেখিয়ে তাদের মামলার আসামী করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং হুমায়ুন কবির হত্যাকান্ডে মাসুদ রানা সহ এজাহারে উল্লেখিত সকলেই জড়িত, সাক্ষী প্রমান রয়েছে এবং মামলার তদন্তে তা প্রমানিত হবে।

এ বিষয়ে মামলার বাদী নিহতের বাবা কাইয়ুম মিয়া ওরফে কাইয়ুম জানান, এজাহারভুক্ত আসামী মোঃ মাসুদ রানা ও মেহেদী হাসান টুটুল এই ঘটনার মূল হোতা। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই ও দোষীদের শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) মোঃ সালাহ উদ্দিন করিম বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য যে, গত ১৩ জুন উপজেলার সহনাটি ইউনিয়নের সোনাকান্দি গ্রামের তারা মিয়ার চায়ের দোকানের সামনে একই গ্রামের খাইয়ুম ওরফে কাইয়ুম এর ছেলে ইউনিয়ন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবিরকে দুবৃত্তরা হত্যা করে। এই ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে গত ১৬ জুন গৌরীপুর থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ ১৭জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১৬।

Share Now


আপনার মতামত জানান :

এক ক্লিকে জেলার খবর  



২০২১-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত gnews24bd.com | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম