৩৩.৭৯°সে, ২৫শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ


 

ময়মনসিহের গৌরীপুর উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের খাজান্দর গ্রামে বিবাহিত ও অবিবাহিতের মধ্যে প্রীতি ফুটবল খেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামের দুই পরিবারের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন কমবেশী গুরুতর আহত হয়। এই ঘটনায় এক পক্ষ প্রতিপক্ষের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ১০ জনকে কুপিয়ে আহত করে। আহতদের গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। এরমধ্যে গুরুতর আহত ৪ জনকে পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়েরের পর কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি। কিন্ত ঘটনার ৭ দিন পর এ মামলার আসামিরা পাল্টা মামলা করেই রাতেই বাদী সহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
এ নিয়ে এলাকায় আলোচনা সমালোচনা ছাড়াও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আজ শনিবার দুপুরে  গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত হলেন- খাজান্দর গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে হাবিবুল ইসলাম (৫২), তাইজুল ইসলাম (৪৫), রুবেল মিয়া (৩২)।স্থানীয় ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ৮ জুন বোকাইনগর ইউনিয়নের খাজান্দার গ্রামে একটি প্রীতি ফুটবল খেলা নিয়ে রুবেল মিয়ার পরিবারের সদস্যদের সাথে প্রতিবেশী মগবুল হোসেনের পরিবারের সদস্যদের সাথে বিরোধ হয়। ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও মারামারির ঘটনা ঘটে।

এ সময় মগবুল হোসেনের লোকজনের হামলায় রুবেলের বাড়ির নারী পুরুষসহ কমপক্ষে ১০জনতে কুপিয়ে ও লাঠির আঘাতে গুরুতর আহত করে। গুরুতর আহতদের মধ্যে হেলেনা বেগম(৪৫),তাইজুল ইসলাম(৬০),রানা (২০) ও লিপি আক্তার(৪০) কে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এই ঘটনায় গত ১৪ জুন রুবেল মিয়া বাদী হয়ে গৌরীপুর থানায় এজাহার নামীয় ৫জন ও অজ্ঞাত ৫জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামী পক্ষ আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসে।
এমনাবস্থায় ঘটনার ৭ দিন পর ২০ জুন শুক্রবার রাতে  আসামি পক্ষের মকবুল হোসেন বাদী হয়ে প্রতিপক্ষের নাম উল্লেখ ১০ জন ও অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি করে গৌরীপুর থানায় মামলা করে। আর এই মামলায় রাতেই পুলিশ গুরুতর অসুস্থ মাথায় সেলাইসহ তাইজুল ইসলাম(৬০),হাবিবুল(৪৫) ও ও মামলার বাদী রুবেল মিয়াকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহত তাইজুল ইসলামের মেয়ে এনামনি জানান, ঘটনার দিন আসামি পক্ষের লোকজন আমাদের বাড়ীর সামনে এসে আমাদের পরিবারের লোকজনের উপর অতর্কিত হামলা করে ১০ জনকে গুরুতর আহত করে এবং আমাকে চুলের মুঠি ধরে বেধরক মারধর করে। আমাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের হলেও কোন আসামি গ্রেফতার হয়নি। উপরন্তু সাতদিন পর আসামিদের মিথ্যা মামলায় গুরুতর আহত আমার বাবা ও দুই চাচাকে গভীর রাতে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। আগামী ২৬ জুন আমার এইচএসসি পরীক্ষা। আসামিদের হুমকি-ধামকিতে পরীক্ষার প্রস্ততি নিতে পারছি না, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।
এবিষয়ে গৌরীপুর মহিলা কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি তানজিন চৌধুরী লিলি জানান, আমার মহিলা কলেজের এইসএসসি পরিক্ষার্থীর পরিবারের লোকজন গুরুতর আহত হয়েছে এ অবস্থায় সে পরীক্ষার প্রস্ততি নিতে পারছেনা। তার উপর প্রতিপক্ষরা মামলা দায়ের করে ঐ রাতেই আহতদের গ্রেফতার করা এটি অমানবিক কাজ হয়েছে।

এদিকে মগবুল হোসেনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে বাড়িতে থাকা মগবুল হোসেনের পুত্রবধু বলেন, রুবেল মিয়া মিথ্যা মামলায় আমাদের পরিবারের লোকজনকে আসামি করেছে। তাদের হামলায় আমাদের পরিবারের তিন জন আহত হয়েছে।

জানতে চাইলে প্রথম মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (এসআই) আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনার পর আমি আসামি ধরতে একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছি। কিন্ত আসামি ধরতে পারি নি। কাউন্টার (দ্বিতীয়) মামলার আসামি আমি গ্রেফতার করিনি।ঐ মামলার যিনি তদন্তকারী কর্মকর্তা তিনি গ্রেফতার করেছে।

অপর দিকে দ্বিতীয় পাল্টা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা  (এসআই) রেজাউল করিম বলেন, আমি জানতাম না এ ঘটনায় আরেকটা মামলা আছে। তাছাড়া মামলা হলে আসামি ধরতে হয়। তাই আসামি ধরেছি।

এ বিষয়ে গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দিদারুল ইসলাম বলেন, দুটো মামলাই পুলিশ গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে। প্রথম মামলার আসামিরা পলাতক থাকায় পুলিশ আসামি ধরতে পারে নি। কিন্ত আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। দ্বিতীয় মামলার আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আর এইচএসসি পরীক্ষার্থীর নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share Now


আপনার মতামত জানান :

এক ক্লিকে জেলার খবর  



২০২১-২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত gnews24bd.com | উন্নয়নে হোস্টপিও.কম